সংক্ষিপ্ত অফিস পরিচিতি
বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। এ দেশের প্রায় ৮০% লোক এখনও কৃষি কাজের সহিত জড়িত। কৃষির উন্নতিই দেশের উন্নতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষক তথা দেশের উন্নতির লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ১৯৬১ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন ইপিএডিসি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বর্তমানে যা বিএডিসি নামে পরিচিত করে।
“যারা যোগায় ক্ষুধার অন্ন, আমরা আছি তাদের জন্য” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে বর্তমানে বিএডিসি দেশের তথা কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। ফসল উৎপাদনের ৩টি মূল উপকরন হলো মান সম্মত বীজ, সুষম সার ও পরিমিত পানি ব্যবস্থাপনা। ফসল উৎপাদনে অন্যতম প্রধান ও মূখ্য উপকরন মান সম্মত বীজ কৃষকের দোড় গোড়ায় পৌছে দিয়ে অধিক ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিএডিসি বীজ বিপণন অঞ্চল, কুমিল্লা। কৃষকের নিকট সহজে বীজ সরবরাহের লক্ষ্যে কুমিল্লা, চাঁদপুর, বি-বাড়িয়া জেলা নিয়ে এই বীজ বিপণন অঞ্চলটি গঠিত। কৃষকের দোড়গোড়ায় যেন সহজে বীজ পৌছানো যায় সে জন্য ৩টি জেলা, ৭টি উপজেলা বিক্রয়কেন্দ্র, ১টি আঞ্চলিক গুদাম এবং ৭২৭ জন (কুমিল্লা- ৩৭৮, চাঁদপুর- ১২৩, বি-বাড়িয়া- ২২৬) বীজ ডিলারের সমন্বয় রয়েছে এই অঞ্চলের একটি সুবিন্যস্ত বীজ বিপণন নেটওয়ার্ক। অত্র বীজ বিপণন অঞ্চল, মৌসুমের শুরুতেই প্রথমে কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও বি-বাড়িয়া সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের জাত ও শ্রেণী অনুযায়ী একটি কৃষিতাত্ত্বিক চাহিদা তৈরি করে থাকে। উক্ত কৃষিতাত্ত্বিক চাহিদার ভিত্তিতে জেলা ও উপজেলা অনুযায়ী বীজ ডিলারের মাধ্যমে বীজের বরাদ্দ প্রদান করা হয়ে থাকে। তাছাড়াও ২টি জেলা বীজ বিক্রয়কেন্দ্র শিমরাইলকান্দি বি-বাড়িয়া ও তালতলা, চাঁদপুর এবং উপজেলা বীজ বিক্রয়কেন্দ্র দাউদকান্দি, দেবিদ্বার, বুড়িচং, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, বরুড়া, হাজীগঞ্জ এর মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ন্যায্যমূল্যে কৃষকের নিকট বীজ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। প্রতি বছর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে খাদ্যের চাহিদাও যেমন বাড়ছে তেমনি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করতে বিএডিসি, কৃষি উপকরন সরবরাহের পরিমান তথা বিএডিসি বীজ সরবরাহের পরিমান ও উত্তোরোত্তর বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বশেষে বলা যায় যে, অত্র অঞ্চলের ফসল উৎপাদন তথা কৃষি উন্নয়নে অত্র দপ্তরটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ও কাঠামো -
বীজ বিপণনের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য যুগ্ম-পরিচালক (বীজ বিপণন), চট্টগ্রাম বিভাগ, চট্টগ্রাম এর আওতাধীন ১ জন উপ-পরিচালক (বীজ বিপণন), বিএডিসি, কুমিল্লা দপ্তরের অধীন ১টি আঞ্চলিক গুদাম এবং ২টি জেলা (চাঁদপুর, বি-বাড়িয়া), ৭টি উপজেলা (দাউদকান্দি, চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, বরুড়া, দেবিদ্বার, বুড়িচ, হাজীগঞ্জ) বীজ বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। আঞ্চলিক বীজ গুদামে ১ জন গুদাম রক্ষক উপজেলা বিক্রয়কেন্দ্রে ১ জন গুদাম রক্ষক এবং ১ জন উপ-সহকারী পরিচালক এবং জেলা বীজ বিক্রয়কেন্দ্রে ১ জন সিনিয়র সহকারী পরিচালক এবং ১ জন উপ-সহকারী পরিচালক, ১ জন গুদাম রক্ষক রয়েছেন। জেলা ও উপজেলার চাহিদা ভিত্তিতে আঞ্চলিক গুদাম হতে বীজ ডিলারদের নিকট এবং জেলা ও উপজেলা বিক্রয়কেন্দ্র হতে সরাসরি কৃষকের নিকট বীজ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। প্রতি বৎসর জুলাই মাসে প্রতি উপজেলার ২০ জন কোঠার ভিত্তিতে বীজ ডিলার নিয়োগ ও নবায়ন করা হয়ে থাকে।
পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি, ডিওআইসিটি ও বেসিস